হাফেজ জয়নাল আবেদীনের ব্লগ সাইটে আপনাকে স্বাগতম

সারা জীবন মানুষের পাশে থাকতে চাই’



     
মো. মিজানুর রহমান সুমন
মো. মিজানুর রহমান সুমন। সৌদি আরব প্রবাসী একজন সফল ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে মক্কা মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বয়সে তরুণ এই সফল ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। সহযোগিতা করছেন দেশ-বিদেশের অসহায় মানুষকে।
অতিসম্প্রতি কিডনী রোগে আক্রান্ত সাফা নামের এক মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ২১ লাখ টাকা দিয়েছেন। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের ক্যান্সার আক্রান্ত সুরমা বেগমকে ১ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ত্রাণ দিয়েছেন। নিজ এলাকা কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই  কোটি টাকার অনুদান প্রদান করে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। এ কারণে তাঁকে ‘সন অব হিউম্যানিটি’ (মানবতার সন্তান) বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই।
প্রচারবিমুখ একজন সফল ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও মানবিক মিজানুর রহমান সুমনের সঙ্গে ক্যারিয়ারটাইমস২৪ডটকমের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলে আরও জানাচ্ছেন রাসেল মাহমুদ
রাসেল মাহমুদ : কেমন আছেন?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
রাসেল মাহমুদ : দীর্ঘ সময় ধরে আপনি বিভিন্ন মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। মানবতার জন্য কাজ করতে আপনার কেমন লাগে?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : শুরুতেই বলে রাখি, আমি অনেক কষ্টে মানুষ হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই অনেক যুদ্ধ করে বড় হয়েছি। আল্লাহ এখন আমাকে ভালো রেখেছেন। এখন মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দেখলে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে ভালো লাগে। শান্তি পাই। কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা হৃদয় বিদারক। আমি চাই মানবিক একটা পৃথিবী। তাই মানুষের বিপদে পাশে থাকতে পারলে ভালো লাগে। সারা জীবন মানুষের পাশে থাকতে চাই।
রাসেল মাহমুদ : আপনি এতো ভালো কাজ করছেন, অথচ তেমন প্রচার নেই, এর কারণ কি?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : দেখুন, আমি কাজ করি আর্তমানবতার জন্য। এটা প্রচার করারও তেমন বিষয় না।এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজের কাজ নিয়ে অনেকেই প্রচার করছে। আমি নিভৃতে কাজ করতে পছন্দ করি। আমি যদি ভালো কাজ করি তাহলে আমাকে প্রচার করতে হবেনা। মানুষই আমার কাজের কথা বলবে। ভালো কাজ করতে চাই মানুষের সান্নিধ্যে থাকার জন্য। মানুষের ভালোবাসা পাবার জন্য।
রাসেল মাহমুদ : আপনিতো দেশের বাইরে আছেন। কতো দিন ধরে আছেন?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : আমি প্রায় এক যুগ অর্থাৎ ১২ বছর ধরে এদেশে (সৌদি আরব) আছি।
রাসেল মাহমুদ : আপনিতো বয়সে অনেক তরুণ। এই তরুণ বয়সেই আপনি ব্যবসা করে সফল হয়েছেন। তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : তরুণদের আমি বলবো, তোমরা কোন কিছু করার পরিকল্পনা করলে সেটা শুরু করে দাও। শুরুটা যদি ভুলও হয় তাও শুরু করো। একবার নয় ৫ বারও ব্যর্থ হতে পারো। তবে ছেড়ে দিওনা। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। একই সঙ্গে নিজেকে নমনীয় করে সবার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে এবং শিখতে হবে। শেখার কোন বিকল্প নাই। শেখার মানুষিকতা যার যতো বেশি, তার সাফল্য ততো নিকটে। তাই আমি সব সময়ই বলি, ইতিবাচক মানুষিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবার পাশাপাশি  শেখার মানুষিকতা থাকলেই তরুণরা সফল হবে।
রাসেল মাহমুদ : রাজনীতিতে আসলেন কিভাবে?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : ছোটবেলা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসির দৃঢ় নেতৃত্ব আমাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই রাজনীতি আমার ভালো লাগে। তবে রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছি মক্কা মহানগর যুবলীগের মাধ্যমে। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষেরই আদর্শিক রাজনীতি করা উচিত। কারণ ভালো কাজ করতে হলে রাজনীতির প্রয়োজন অবশ্যই আছে। সমাজের ইতিবাচক কাজ করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় সে কাজ করতে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা পালন করে।
রাসেল মাহমুদ : যেহেতু আপনি রাজনীতি করছেন, একই সঙ্গে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ভবিষ্যতে কি জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করার পরিকল্পনা আছে?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : মানুষের সেবায় সব সময়ই নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তবে জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে হবে এতে আমি বিশ্বাসী না। তাছাড়া জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা আমার নাই। এখন যেমন আছি,তেমন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
রাসেল মাহমুদ : শিক্ষা নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে কিনা?
মো. মিজানুর রহমান সুমন : আল্লাহ যদি তৌফিক দেন ভবিষ্যতে শিক্ষা নিয়েও কাজ করতে চাই।
রাসেল মাহমুদ : ক্যারিয়ার টাইমসকে সময় দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
মো. মিজানুর রহমান সুমন : ক্যারিয়ারটাইমসকেও ধন্যবাদ।
Share This